অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ২৪ বার পঠিত
বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ইতিহাস গড়েছে ভিয়েতনাম। ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসেই দেশটির পণ্য আমদানি ও রপ্তানির সম্মিলিত পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বড় বাণিজ্যিক লেনদেনের ঘটনা ঘটল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি-রপ্তানির মোট পরিমাণ বেড়েছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। রপ্তানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, শুধু অক্টোবর মাসেই দেশটির মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২২০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ পরিমাণ ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৯ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রপ্তানির এ সম্প্রসারণে দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগনির্ভর উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান অবদান রেখেছে। মোট রপ্তানির ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদিত পণ্য থেকে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে এসব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিও রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে।
তবে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লেও আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য পুরোপুরি আসেনি। অক্টোবর মাসে ভিয়েতনাম ৬৮০ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো উদ্বৃত্তের দেখা পেলেও বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশটির সম্মিলিত বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমদানি-রপ্তানিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়ন করছে ভিয়েতনাম সরকার। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০৩০ সাল পর্যন্ত পণ্য বাণিজ্যের কৌশল এবং ২০৪৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ এবং আমদানি প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক দেশের তালিকায় জায়গা করে নিতে চায় দেশটি।
এ পরিকল্পনায় রপ্তানি খাতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিদেশী বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও রপ্তানির বড় ভূমিকা থাকলেও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট রপ্তানিতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অংশ ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৪৫ সালের মধ্যে এ হার ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট রপ্তানিতে প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদিত পণ্যের অংশ ৮৯ থেকে ৯০ শতাংশে এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৯২ শতাংশের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের অংশ ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে দেশটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কোনো একক বাজারে মোট রপ্তানির ২৫ শতাংশের বেশি এবং কোনো একক বাজার থেকে আমদানির ৩৫ শতাংশের বেশি নির্ভরতা রাখা হবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উদীয়মান বাজারগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে রপ্তানি বাড়ানো, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেবে ভিয়েতনাম সরকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান শুল্ক, পরিবেশগত মান, পণ্যের উৎস এবং সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণে রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটি। সরকারি অনুমোদিত বাণিজ্যিক চ্যানেল সম্প্রসারণ, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৃষিপণ্যের স্বাস্থ্য ও মানসংক্রান্ত চুক্তি এবং শীতল সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন এলাকা থেকে প্যাকেজিং পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যসীমা অতিক্রম ভিয়েতনামের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে শুধু বিদেশী বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য উৎপাদন, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্যে শীর্ষ ১০ দেশের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্য পূরণে এসব বিষয়ই হবে ভিয়েতনামের পরবর্তী বড় পরীক্ষা।
Posted ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন